৫৫ বছর ধরে ভোট দেন না চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের একটি ইউনিয়নের নারীরা। সব প্রস্তুতি থাকার পরও তারা ভোটকেন্দ্রে যান না। তবে এবার আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নারীদের কেন্দ্রে নিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও নির্বাচন কমিশন।
প্রায় ৩ দশক ধরে ভোটকেন্দ্রে যান না চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা। স্থানীয়রা জানান, ১৯৬৯ সালে ভারতের জৈনপুর থেকে ওই এলাকায় আসেন মওদুদ হাসান জৈনপুরী নামের একজন পীর। সেসময় কলেরা রোগের মহামারি থেকে বাঁচতে তিনি সব ধর্মের নারীদের পর্দা করার পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর থেকেই ভোট দেন না ওই এলাকার নারীরা।
ভোট না দেওয়া প্রসঙ্গে স্থানীয় এক নারী ভোটার জানান, 'ভোট দেওয়া নিষেধ তো। আমরা কখনও আসলে দেই নাই আর কি।' আরেক জন বলেন, 'আগে হুজুরে মানা করা হয়েছে, এ কারণে দেওয়া হয় নাই।'
অনেকে আবার পরিবারের রীতি অনুযায়ী ভোট দেননি। 'ছোটবেলা থেকেই কখনও দেখি নাই যে আমাদের মা-কাকিরা ভোট দিয়েছেন। এই ইয়ে (রীতি) অনুযায়ী আমরা কখনও ভোট দিতে হয় নাই,' বলে জানান রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের আরেক নারী ভোটার।
তবে এবার নারীদেরকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যেতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন প্রার্থী ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। চাঁদপুর-৪ আসনে ভোটের মাঠে আছেন ৬ প্রার্থী। নারীদের উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত উঠান বৈঠক করছেন তারা।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের বিএনপি প্রার্থী লায়ন হারুনুর রশিদ বলেন, 'যে একটা ইউনিয়নে ভোট দিবে না বলেছে, এবার সবাই রেডি ইনশাআল্লাহ্। প্রত্যেকটা ওয়ার্ডেই কিন্তু আমাদের নারীদের একত্রে উঠান বৈঠক হয়েছে।'
এ প্রসঙ্গে চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির বিল্লাল হোসেন মিয়াজী জানান, 'কয়েকটা উঠান বৈঠক করেছিলাম নারীদেরকে নিয়ে যেখানে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছি। তারা এবার কথা দিয়েছে যে, এবার তারা ভোটকেন্দ্রে যাবে, ভোট দিবে।'
সব নির্বাচনের আগেই এই ইউনিয়নে নারীদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালায় ইসি। এবারও তাদের ভোট দেওয়া নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টার কথা জানালেন চাঁদপুর জেলা নির্বাচন অফিসার জিয়াউর রহমান খলিফা। তিনি বলেন, 'অতীতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক নানা ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। তারপর তাদেরকে (নারীদেরকে) কেন্দ্রমুখী করা খুব একটা যায়নি। আমরা এ বছরও সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো তাদেরকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য।