খুন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ’: হামিদুর রহমান আযাদ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, দেশ বর্তমানে এক অরাজক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। খুন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধে সাধারণ মানুষের জীবন আজ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত তৃণমূল দায়িত্বশীলদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী গত ১৫ দিনে দেশে অন্তত ৪০টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। তিনি উল্লেখ করেন, গত এক সপ্তাহে সংঘটিত বেশ কিছু লোমহর্ষক ঘটনা দেশবাসীকে নাড়া দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপি সন্ত্রাসীদের হামলায় জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান নিহত হওয়ার ঘটনা জনমনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। একই সময়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি ও নাতনিকে নৃশংসভাবে হত্যার পর ধর্ষণের অভিযোগ সারা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। গাজীপুরে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাইকে গলাটিপে হত্যার পর বনের ভেতর মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনাও সম্প্রতি উদঘাটিত হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কমলাপুর ও ডেমরা এলাকা থেকে এক যুবকের খণ্ডিত দেহের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রমাণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, গাইবান্ধা জেলায় গত দুই সপ্তাহে পাঁচজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে একজন আইনজীবীর সহকারীও রয়েছেন। এসব ঘটনায় পুরো জেলায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়া চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ধর্ষণের পর শিশু হত্যা এবং নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার মতো নির্মম ঘটনাও দেশের মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এসব ঘটনার পরও অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় মানুষ হতাশ হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ড. হামিদ আযাদ বলেন, দেশে শুধু হত্যা বা ধর্ষণ নয়, চাঁদাবাজিও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোড় থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাট-বাজার পর্যন্ত চাঁদাবাজ চক্রের দৌরাত্ম্য চলছে। এক শ্রেণির অসাধু চক্র রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও পক্ষপাতমূলক আচরণ অপরাধীদের উৎসাহিত করছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এতে করে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং মানুষ আবার নিরাপত্তাবোধ ফিরে পাবে।
সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে সরকারকে এর দায়ভার নিতে হবে। দেশের মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তা চায়, তারা আর অরাজকতা দেখতে চায় না। তিনি দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষকে অন্যায়, অপরাধ ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মহেশখালী উপজেলা দক্ষিণ জামায়াতের আমির মাস্টার শামিম ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মো. জাকের হোসেন, কক্সবাজার শহর জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সেক্রেটারি কামরুল হাসান, মহেশখালী উপজেলা সেক্রেটারি আব্দুর রহিম, পৌরসভা সভাপতি মোতাহের হোসেন, ছোট মহেশখালী ইউনিয়ন সভাপতি মো. সোহাইল, কুতুবজোম ইউনিয়ন সেক্রেটারি আবদুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। সভায় তৃণমূলের দায়িত্বশীলরা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মতামত তুলে ধরেন এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
