"শুধু ফয়সাল নয়, হাদি হত্যার পুরো চক্রের বিচার চাই"দাবি পরিবারের

 


ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল করিম মাসুদসহ জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহত হাদির পরিবার। সোমবার (৯ মার্চ) সকালে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিহত ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদের গ্রেপ্তারের খবর তাদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে।

 তবে শুধুমাত্র একজন শুটারকে গ্রেপ্তার করলেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা পরিকল্পনা করেছে, যারা নির্দেশ দিয়েছে, যারা অর্থায়ন করেছে এবং যারা তাকে জেল থেকে জামিনে বের হতে সহায়তা করেছে—এসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কারভাবে সামনে আনতে হবে। তিনি বলেন, ফয়সাল একজন শুটার হিসেবে কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কিন্তু তার পেছনে একটি বড় চক্র বা গ্যাং থাকতে পারে। তাই কেবল একজনকে দায়ী করে অন্যদের আড়াল করা হলে প্রকৃত বিচার প্রতিষ্ঠা হবে না।

মাসুমা হাদি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুরো গ্যাংকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। শুধু ফয়সালকে বলির পাঁঠা বানিয়ে মূল পরিকল্পনাকারীদের রক্ষা করার চেষ্টা করা হলে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

 একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। পরিবারের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

এর আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। গ্রেপ্তারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।

 সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরে তার মরদেহ দেশে আনা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশেই তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন