যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে মারধর: ভারতীয় ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে মামলা
ভারতের জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আইপিএলে খেলা ক্রিকেটার অমিত মিশ্রের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে কানপুরের একটি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তার স্ত্রী গরিমা তিওয়ারি। ৩৫ বছর বয়সী মডেল গরিমা কানপুরের অতিরিক্ত সিভিল জজ (সিনিয়র ডিভিশন) আদালতে এ অভিযোগ দাখিল করেন।
মামলায় তিনি দাবি করেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী অমিত মিশ্র ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়মিতভাবে নির্যাতন করতেন। এ ঘটনায় মিশ্রর পাশাপাশি তার মা বীনা মিশ্র, বাবা শশীকান্ত মিশ্র, ভাই অমর মিশ্র, ভাবি রিতু মিশ্র এবং বোন স্বাতী মিশ্রকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পারিবারিকভাবে সম্মানের সঙ্গে বিয়ে হলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তার ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ ও নির্যাতন শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছায়।
গরিমা তিওয়ারি সাংবাদিকদের জানান, ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে অমিত মিশ্রের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং প্রায় তিন বছর সম্পর্ক থাকার পর ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল কানপুর ক্লাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও কিছুদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
গরিমার অভিযোগ, বিয়ের পরপরই তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তার পরিবারের কাছে যৌতুক হিসেবে একটি হোন্ডা সিটি গাড়ি এবং ১০ লাখ রুপি দাবি করতে শুরু করেন। বিয়ের সময় তার পরিবার সামর্থ্য অনুযায়ী প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার রুপি দিলেও পরে আরও অর্থ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এই অর্থ না দেওয়ায় তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গরিমার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক সময় মদ্যপ অবস্থায় অমিত মিশ্র তাকে মারধর করতেন এবং অশালীন ভাষায় গালাগালি করতেন। এমনকি অনেক সময় তাকে খাবারও দেওয়া হতো না বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও জানান, মডেলিং পেশায় কাজ করে যে অর্থ তিনি উপার্জন করতেন, তা স্বামী জোর করে নিয়ে নিতেন।
পাশাপাশি তাকে প্রায়ই তালাক দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের নির্যাতনের কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত নিজের মডেলিং ক্যারিয়ারও ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে একসময় হতাশায় তিনি ফিনাইল পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসার মাধ্যমে তার প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়।
গরিমা তিওয়ারি আরও অভিযোগ করেন, স্বামীর প্রভাবের কারণে তিনি একাধিকবার পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালেও তা গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করা হয়নি। তার দাবি, অমিত মিশ্র একজন পরিচিত ক্রিকেটার হওয়ায় স্থানীয় পুলিশ বিষয়টি এড়িয়ে যায় এবং কোনো এফআইআর গ্রহণ করা হয়নি।
ফলে দীর্ঘদিন ন্যায়বিচার না পেয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার আইনজীবী করিম আহমেদ সিদ্দিকি সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের কাছে বারবার অভিযোগ করার পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আদালতে মামলা করা হয়েছে। আদালত এখন বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগী।
