একযোগে এনসিপির ৮৭ নেতার পদত্যাগ, যা জানা গেল

 


রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির আহ্বায়কসহ ৮৭ জন একযোগে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (৯ মার্চ) এক বিশেষ সভায় উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমাসহ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গণপদত্যাগের ঘোষণা দেন। পদত্যাগপত্র রাঙামাটি জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়। পদত্যাগকারীরা জানিয়েছেন, তারা মূলত দলটির বর্তমান অবস্থান ও তাদের আদর্শের মধ্যে অসামঞ্জস্যতার কারণে সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।

পদত্যাগকারীদের দাবি, তারা জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা নিয়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলের বড় একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্ত নেয়ার মাধ্যমে এনসিপি তার স্বকীয়তা ও আদর্শ থেকে সরে এসেছে। দলটির বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে তাদের আদর্শিক অবস্থান মিলছে না, তাই তারা পুরো কমিটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ের সংগঠনও কার্যত শূন্য হয়ে গেছে।

কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ চাকমা বলেন, ১ জানুয়ারি রাঙামাটি জেলা কমিটি জুরাছড়ি উপজেলার ৮৭ সদস্যের কমিটি ছয় মাসের জন্য অনুমোদন দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের নীতি-আদর্শের সঙ্গে অসামঞ্জস্যতা লক্ষ্য করে তারা সম্মিলিতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া আহ্বায়ক অসিম চাকমা জানিয়েছেন, তিনি আজ থেকে এনসিপির রাঙামাটি জেলা আহ্বায়ক কমিটি এবং জুরাছড়ি উপজেলা আহ্বায়কসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগ করছেন।

এ বিষয়ে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে পদত্যাগের খবর পেয়েছেন। তবে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী যে কমিটি থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেই কমিটির কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। তারা নিয়ম মেনে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি-না, তা এখনও জানা নেই। তিনি আরও বলেন, দলীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী পদত্যাগপত্রের বৈধতা যাচাই করার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এটি জেলা ও উপজেলার এনসিপি সংগঠনের স্থিতিশীলতা ও কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। পদত্যাগের মাধ্যমে কমিটি শূন্য হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে এনসিপির কার্যক্রম ও জনসংযোগ সীমিত হয়ে আসতে পারে। পাশাপাশি এটি দলের মধ্যে আদর্শিক এবং নীতি-নৈতিকতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশের একটি ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

পদত্যাগের মাধ্যমে এই কমিটির সদস্যরা স্পষ্টবার্তা দিয়েছেন যে, দল যদি তাদের মূল আদর্শ ও স্বকীয়তা বজায় রাখে না, তাহলে তাদের অংশগ্রহণও অর্থহীন হয়ে যাবে। এটি দলীয় নেতৃত্বের জন্যও একটি সতর্কবার্তা, যাতে তারা আদর্শ ও নীতি অনুসরণের মাধ্যমে স্থানীয় নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করতে পারে।

মোট কথা, জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির একযোগে পদত্যাগ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। দলের আদর্শিক অবস্থান ও রাজনৈতিক কৌশলের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এনসিপি স্থানীয় পর্যায়ে আবার কার্যকর কমিটি গঠন করতে না পারলে এর প্রভাব পার্টির স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাবেও পড়বে। পদত্যাগের ঘটনা প্রমাণ করছে, রাজনৈতিক দলের আদর্শ ও নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখা স্থানীয় নেতাকর্মীদের আস্থা ধরে রাখার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন