জ্বালানি সংকট ও তেলের রেশনিং নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
দেশে জ্বালানি তেলের কিছুটা সংকট থাকলেও অযথা আতঙ্ক ও ভীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ। সোমবার (৯ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে তিনি বলেন, তেল নিয়ে দেশে কিছুটা সংকট রয়েছে—এ বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে বাস্তবে সংকট যতটা, মানুষের অযথা আতঙ্ক ও ভীতি সেটিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। তিনি উল্লেখ করেন, অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে তেল শেষ হয়ে যেতে পারে, আর এই ভয় থেকেই অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে মজুদ করতে শুরু করেছেন। এতে করে বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ থাকলেও কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, যদি সবাই তেল শেষ হয়ে যাবে এই আশঙ্কায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে জমা করতে থাকে, তাহলে বাস্তবে তেলের ঘাটতি না থাকলেও বাজারে তা দ্রুত কমে যেতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানি পাওয়া কঠিন হয়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, আতঙ্কের কারণে মানুষ যখন অতিরিক্ত তেল মজুদ করে, তখন তার প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং খাদ্য সরবরাহ, কৃষিকাজ, ওষুধ পরিবহনসহ জরুরি বিভিন্ন সেবাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায় এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
পোস্টে তিনি ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলাম মজুদদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকে সুস্পষ্টভাবে নিষেধ করেছে। কোনো পণ্য অযথা জমা করে রেখে বাজারে সংকট সৃষ্টি করা ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যায় এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি সবাইকে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে। সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি দায়িত্বশীল আচরণ করে, তাহলে এমন সংকট সহজেই মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। পোস্টের শেষ দিকে তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করে বলেন, আল্লাহ যেন সবাইকে সংযম, সচেতনতা ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দান করেন।
