শফিকুল আলমের আবেগঘন স্ট্যাটাস ভাইরাল!
সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শফিকুল আলম দায়িত্ব শেষ করার পর রাজধানীর বেইলি রোড–এর ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টে’ কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণ করে একটি আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, বেইলি রোড তার জীবনের এক রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে থাকবে। তিনি জানান, ওই ভবনের পঞ্চম তলায় তার বসবাস ছিল এবং সেই সময়টুকু ছিল তার জীবনের অত্যন্ত ব্যস্ত ও ঘটনাবহুল সময়। যদিও ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’ নামটি শুনলে সেখানে মন্ত্রীদের বসবাসের ধারণা পাওয়া যায়, বাস্তবে সেখানে তখন কোনো মন্ত্রী থাকতেন না। ভবনটিতে বসবাস করতেন মূলত বিচারপতি ও নির্বাচন কমিশনাররা। ফলে চারপাশের পরিবেশ ছিল বেশ শান্ত, নিরিবিলি ও স্থির।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেইলি রোডের সেই বাসায় তার প্রতিটি সকাল শুরু হতো পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে। তার ফ্ল্যাট থেকে কয়েক কদম দূরেই ছিল রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যমুনা, যেখানে অবস্থান করতেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসের অধিকাংশ সময় ড. ইউনূস ওই ‘যমুনা’ ভবন থেকেই দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এ কারণে অনেক সময় তাকে রাতের খাবার ফেলে রেখে দ্রুত সেখানে ছুটে যেতে হয়েছে। বিশেষ করে দেশের নানা সংকটকালীন মুহূর্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সংকট ব্যবস্থাপনার দৃশ্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে তার। সেই অভিজ্ঞতা মানুষের কাছে তুলে ধরাও ছিল তার দায়িত্বের অংশ।
শফিকুল আলম তার স্ট্যাটাসে আরও বলেন, বেইলি রোডের বাসা থেকে কয়েক গজ দূরেই অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমি তার কর্মজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। তিনি সেখানে প্রায় ৩০০টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবং ঐকমত্য কমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ সংলাপেও অংশ নিয়েছেন। এসব আলোচনায় দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, সংকট নিরসন ও বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো। তবে শান্ত পরিবেশের এই এলাকাটি অনেক সময়ই উত্তাল বিক্ষোভ ও আন্দোলনের সাক্ষী হয়েছে। তখন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাত যে মনে হতো সবকিছু ভেঙে পড়তে পারে। কিন্তু সময়ের কোনো এক রহস্যময় মোড়ে পরিস্থিতি আবার শান্ত হয়ে যেত এবং বেইলি রোড তার আগের শান্ত সৌন্দর্যে ফিরে আসত।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি ব্যক্তিগত কিছু আক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত তেরো মাসে তিনি ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র রমনা পার্ক–এ পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেননি। অন্যদের মতো সকালে সেখানে হাঁটাহাঁটি করা কিংবা আড্ডায় অংশ নেওয়ার সুযোগও খুব কমই হয়েছে। তবুও তিনি ও তার স্ত্রী প্রায় প্রতিদিনই রাস্তার ধারে বসা অস্থায়ী বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেন। যদিও সম্প্রতি সেই ছোট ছোট দোকানগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সবশেষে তিনি আবেগঘন ভাষায় লিখেছেন— বিদায়, বেইলি রোড। বাইরে থেকে তুমি ছিলে শান্ত, কিন্তু ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে তুমি ছিলে নীরব সাক্ষী।
