গাছের পাতা কুড়ানোর জেরে ইমামকে নির্মম মারধর, এলাকায় চরম উত্তেজনা

 


গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক ইমামকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ হাট বামুনী এলাকার বরনতত গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত ইমামের নাম মিজানুর রহমান বাবলু। তিনি কামারপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ হাট বামুনী এলাকার মৃত সাদেক আলির ছেলে এবং স্থানীয় আকন্দপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে। ইমাম মিজানুর রহমানের স্ত্রী শিউলী বেগম পাশের একটি বাগান থেকে গাছের পাতা কুড়িয়ে আনেন। বিষয়টি নিয়ে জমির মালিকের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। পরে ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা করেন মিজানুর রহমান। কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত না হয়ে উল্টো উত্তেজনা বাড়তে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, একই এলাকার সাদা মিয়া, তার ভাই দুদু মিয়া এবং তাদের পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য মিলে মিজানুর রহমানকে মারধর করেন।

এরপরও বিষয়টি শেষ হয়নি বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, জুমার নামাজ পড়িয়ে বাড়ি ফেরার সময় আবারও অভিযুক্তরা তাকে লক্ষ্য করে ধাওয়া করেন। এ সময় সাদা মিয়া, তার ছেলে এবং ভাতিজা বাবলু মিয়া তাকে ধাওয়া করলে আত্মরক্ষার্থে তিনি পাশের শাহা মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নেন। কিন্তু সেখানে গিয়েও তিনি রক্ষা পাননি। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করেন। মারধরের একপর্যায়ে তিনি রক্তাক্ত হয়ে পড়লে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।


পরে আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একটি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক।

আহত ইমাম মিজানুর রহমান বাবলু বলেন, “একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে আমাকে এভাবে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।” তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক সময় ধর্মীয় পোশাকধারী মানুষও বিভিন্নভাবে লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন, যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।


স্থানীয় বাসিন্দা হামিদ ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একটি ছোট বিষয়কে কেন্দ্র করে জুমার নামাজ শেষে একজন ইমামকে এভাবে মারধর করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান।


এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়রাও আশা করছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

Next Post Previous Post

মন্তব্য করুন